খাগড়াছড়ির গুইমারা থানাধীন জালিয়াপাড়া এলাকায় ২০২০ সালে মোটরসাইকেল চালক আকিব হোসেনকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের বিভিন্ন ধারায় পৃথকভাবে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ জুন) খাগড়াছড়ি জেলা ও দায়রা জজ মো. মতিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় অনুযায়ী, আসামি সাচিং মারমা ও অংচিং মারমার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় উভয়কে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া ২০১ ও ৩৯৪ ধারায় প্রত্যেককে পৃথকভাবে ৭ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে প্রতিটি ধারায় ৩ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ভিকটিম আকিব হোসেন (২০) ছিলেন একজন মোটরসাইকেলচালক। ২০২০ সালের ৩ মার্চ সন্ধ্যায় খাগড়াছড়ি-হ-১১-২১৩৬ নম্বর প্লাটিনা মোটরসাইকেল নিয়ে ভাড়ায় যাত্রী পরিবহনের জন্য বাড়ি থেকে বের হন। ওইদিন সন্ধ্যায় আসামি সাচিং মারমা ও অংচিং মারমা তাকে ভাড়া করে নিজেদের এলাকায় নিয়ে যায়। রাত ১১টার পরেও আকিব বাড়ি না ফেরায় পরিবারের পক্ষ থেকে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলে এক পর্যায়ে আসামিরা ফোনে জানায়, আকিবকে সকালে বাড়ি পাঠানো হবে। এরপর আকিবের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের কেউ তার খোঁজ পায় না।
পরদিন ৪ মার্চ সকালে আকিবের সন্ধান করতে গিয়ে আসামিদের বাড়িতে গেলে জানা যায়, আকিব তাদের সঙ্গে রাত ১০টার সময় খাওয়াদাওয়ার পর বেরিয়ে যায়। সন্দেহ হলে আকিবের পরিবার থানায় এসে মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে, পূর্ব জমি-জমা বিরোধের জের ধরে আকিবকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও হত্যা করা হয়। পরে মোটরসাইকেলসহ তার মরদেহ গোপন স্থানে ফেলে রাখা হয়।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১৪ জন সাক্ষী উপস্থাপন করে। মামলার তদন্ত করেন এসআই লিটন চাকমা।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য চট্টগ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডটি ছিল আলোচিত। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে আদালতের রায়ে ভিকটিমের পরিবার ন্যায়বিচার পেল বলে অনেকেই মনে করছেন।

