খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলা ১নং রামগড় ও ২নং পাতাছড়া ইউনিয়নের দুর্গম পূর্ব লালছড়ি, গরুকাটা, হাসুকপাড়া এলাকায় একেরপর এক বাঙ্গালীদের জায়গা জমি দখলের অংশ হিসেবে এবার আবুল কালাম সওদাগর নামে এক কৃষককের মালিকানাধীন বসতি ও বাগানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে বাড়ীঘর থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালায় পাহাড়ী সন্ত্রাসীরা।
জানা যায়, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনের কিছু দুষ্কৃতকারী স্থানীয় বাঙালিদের জায়গা জমি দখল করে অন্যত্র থেকে স্বজাতীদের এনে উপজাতীয় বসতি স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কৃষক আবুল কালামকে তার পাঁচ একর জায়গায় বাগানবাড়ি থেকে উচ্ছেদের জন্য মোটা অংকের চাঁদা চেয়েছিল, তাঁর বাগানবাড়ি থেকে গরু-ছাগল চিনতাই, ফলন্ত গাছগাছালি কেটে ফেলা সহ সর্বশেষ গত ১০ ফেব্রুয়ারী তার বাগান থেকে পানির পাম্প মেশিনটিও নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
কৃষক আবুল কালাম জানান, এতকিছু করার পরও তিনি নিজ জায়গা বসতি ছেড়ে যায়নি। পাম্পটি নিয়ে যাওয়ার পর তিনি বিষয়টি খাগড়াবিল বিজিবি ক্যাম্পকে অবহিত করেন। বিজিবিকে জানানোর কারনে সন্ত্রাসীরা তাকেসহ অন্যদের ফাঁসানোর জন্য ১৩ ফেব্রুয়ারী রাতে নিজেদের কেয়াং ঘরের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্বজাতীদের জড়ো করে পাশ্ববর্তী একটি উপজাতীয় ঘরে আগুন লাগানোর মিথ্যা নাটক সাজিয়ে থানা ও বিজিবিকে অভিযোগ দেয় এবং তার বসতি ভাংচুর করে।
১৪ ফ্রেব্রুয়ারী সকালে বিজিবি ও এলাকাবাসী সরেজমিনে গিয়ে এর কোন সত্যতা পাননি এবং নতুন বসতি সস্থাপনের চেষ্টাকারীরা কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। বর্তমানে তিনিসহ ঐ এলাকার লেকজন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতংকের মধ্যে রয়েছেন।
ইউপি সদস্য ইসমাঈল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কয়েকদিন পরপর এসব এলাকার বাঙ্গালীদের মালিকানাধীন আবাদী ও অনাবাদী ভূমি বহিরাগত উপজাতী জনগোষ্ঠি দিয়ে জোরপূর্বক দখলের খবর আসে । যাদের কখনো এসব অঞ্চলে বসবাস করতে দেখা যায়নি। ভূক্তভোগীদের আইনী সহায়তা নিতে বলা হয়েছে।
দীর্ঘদিন যাবত ঐ এলাকা থেকে বাঙালি পরিবারগুলিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে উচ্ছেদের চেষ্টা , নিজস্ব মালিকানাধীন টিলা ভূমি আবাদে বাধাঁ, হুমকি চালিয়ে যাচ্ছে সন্ত্রাসীরা। তাই ওই এলাকার জনগণের নিরাপত্তায় একটি সেনা বা বিজিবি ফাঁড়ি স্থাপনের দাবী জানান এলাকাবাসী।

