খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে না-দাবী সনদ (এনওসি) নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তার মাথায় কাঠের স্কেল দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে তারই এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে এ হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মোঃ শফিকুল ইসলাম রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তা ও জরুরি বিভাগের ইনচার্জের দায়িত্ব রয়েছেন।
হামলার অভিযোগ উঠে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত তারই সহকর্মী বিজয় মজুমদারের বিরুদ্ধে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি হয়েছেন।
হাসপাতালের সূত্রে জানা গেছে, বদলিজনিত কারণে নিজের ‘লাস্ট পে সার্টিফিকেট’ (এলপিসি) সংগ্রহের জন্য গতকাল দুপুর দুইটার দিকে বিজয় মজুমদার জরুরি বিভাগের শফিকুল ইসলামের কাছে না-দাবী সনদ নিতে যান। পরে শফিকুল ইসলাম ইনচার্জ হিসেবে বিজয়ের কাছে থাকা হাসপাতালের একটি সরকারি বড় তালা ফেরত চান। এই নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে বিজয় মজুমদার টেবিলের ওপর থাকা একটি মোটা কাঠের স্কেল দিয়ে শফিকুলের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে শফিকুলের মাথা ফেটে যায় এবং তাকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে চিকিৎসা দিতে হয়।
হামলার বিষয়টি স্বীকার করে শফিকুল ইসলাম বলেন, “সরকারি মালামাল বুঝিয়ে দিতে বলায় তিনি আমার ওপর হামলা করেছেন। আমি চিকিৎসা সেবা নিয়ে থানায় রাত ১০ টার দিকে অভিযোগ দায়ের করেছি।” থানার অভিযোগে সহকর্মী বিজয় মজুমদার তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করেছে মর্মে তিনি অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত বিজয় মজুমদার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান ‘এটি অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনা। বিষয়টি আমরা নিজেরা সমাধান করে নিয়েছি। কেন নতুন করে বিষয়টি আলোচনা হচ্ছে জানতে চেয়ে তিনি নিউজ না করার অনুরোধ করেন।
এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বি এম মোজাম্মেল হক জানান, সহকর্মীদের মধ্যে সংগঠিত অপরাধের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাজির আলম জানান, আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে জিডি মূলে আদালতের অনুমতি নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

